দৃষ্টি একটি শক্তিশালী নিয়ামত। আল্লাহ তা’আলা মানুষকে দেখার এবং চারপাশের জগৎ সম্পর্কে জানার জন্য এই অমূল্য নেয়ামত দান করেছেন। কিন্তু এই চোখের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এটি ফেতনা ও গুনাহের কারণ হতে পারে। ইসলামে পুরুষদের জন্য নজরের হেফাজত করা ফরজ করা হয়েছে।
কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই আল্লাহ তারা যা করে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০)
এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা মুমিন পুরুষদেরকে দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নজরের হেফাজত মানে হলো বেগানা নারীদের প্রতি খারাপ দৃষ্টি দেওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো। শুধুমাত্র নারীদের দিকে তাকানোই নয়, বরং এমন কোনো দৃশ্যের দিকে তাকানো যা মনের মধ্যে খারাপ চিন্তা উদ্রেক করে, তা থেকেও নিজেকে বাঁচানো নজরের হেফাজতের অন্তর্ভুক্ত।
নজরের হেফাজতের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে একজন মানুষ অনেক বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। নজরের হেফাজত মানুষকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করে এবং ঈমানকে মজবুত করে। এটি চরিত্রকে পবিত্র রাখে এবং সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
দৃষ্টি সংযত রাখার কয়েকটি উপায়:
১. বেগানা নারীদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।
২. অশ্লীল ও খারাপ দৃশ্য দেখা থেকে নিজেকে বাঁচানো।
৩. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা এবং দুয়া করা।
৪. এমন পরিবেশে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো যেখানে দৃষ্টি সংযত রাখা কঠিন।
৫. নিজের মনকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা।
নজরকে হেফাজত করার মাধ্যমে একজন পুরুষ নিজেকে এবং তার পরিবারকে অনেক প্রকার ফেতনা থেকে রক্ষা করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নজরের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।









