ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম। বিবাহ কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, এটি একটি পবিত্র বন্ধন, যা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক মহান সুন্নাহ ও নেয়ামত। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বিবাহ হলো তাঁর সুন্নাহ।
পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মুমিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন:
“তোমাদের মাঝে যারা অবিবাহিত, তাদের বিবাহ করিয়ে দাও, এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।” (সূরা আন-নূর, আয়াত ৩২)
এই আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, সমাজে অবিবাহিতদের বিবাহের ব্যবস্থা করা শুধু তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও দ্বীনি দায়িত্ব। এই পবিত্র বন্ধন সমাজের ভিত্তি মজবুত করে এবং অনেক অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
বিবাহের গুরুত্ব ও বরকত
১. ঈমান রক্ষা: বিবাহ একজন ব্যক্তিকে অবৈধ সম্পর্ক ও চারিত্রিক স্খলন থেকে রক্ষা করে। নবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিবাহ করলো, সে তার দীনের অর্ধেক পূর্ণ করলো।” (সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব)
২. মানসিক প্রশান্তি: স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য মানসিক শান্তি ও স্থিরতার উৎস (সাকিনা)। আল্লাহ বলেন, “যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো।” (সূরা আর-রূম, আয়াত ২১)
৩. রিযিকের নিশ্চয়তা: যারা বিবাহের কারণে অভাবের ভয় করে, আল্লাহ্ তা’আলা তাদের অভাব দূর করে প্রাচুর্য দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের উচিত রিযিকের ভয় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
অতএব, আমাদের সকলের উচিত অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের জন্য সহজ ও সুন্নাহসম্মত উপায়ে বিবাহের পথ প্রশস্ত করা। যৌতুক, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় সামাজিক প্রথা দূর করে বিবাহের প্রক্রিয়াকে সহজ করুন। যারা বিবাহের জন্য প্রস্তুত, তারা যেন এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে আর দেরি না করেন।
আল্লাহ্ যেন আমাদের সকলকে সহজ ও বরকতময় বিবাহের তাওফিক দান করেন। আমীন।
#বিবাহ #সুন্নাহ #ইসলামিক_পোস্ট #পরিবার #হালাল









