আমরা যখন এই দুনিয়ার জীবনে পথ চলি, তখন আমাদের অসংখ্য প্রয়োজন ও সমস্যা দেখা দেয়। কখনো আমরা আনন্দিত হই, আবার কখনো বিপদাপদে ভেঙে পড়ি। এই প্রতিটি পরিস্থিতিতেই আমাদের জন্য একটি মহৎ ইবাদতের পথ খোলা আছে, আর তা হলো দু’আ বা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।
মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি এতই দয়ালু যে, তিনি চান আমরা যেন তাঁর কাছে চাই। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নিজেই আমাদেরকে দু’আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন।
আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি কোরআন মাজিদে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে:
“আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (তাদেরকে বলে দাও যে) আমি তো নিকটেই। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে আহবান করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান রাখে, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬)
এই আয়াতটি আমাদের জন্য কত বড় সান্ত্বনা! আমাদের এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই, কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই। আমরা যখনই, যেখানেই, যে অবস্থাতেই তাঁকে ডাকি না কেন, তিনি আমাদের একেবারে নিকটে থাকেন এবং আমাদের ফরিয়াদ শোনেন।
কোন দু’আ কবুল হয়?
যখন একজন মুমিন দু’আ করে, তখন আল্লাহ তা’আলা তিনটির যেকোনো একটি উপায়ে তার দু’আ কবুল করেন:
১. তাৎক্ষণিক কবুল: আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেই তার চাওয়া জিনিসটি দান করেন।
২. বিলম্বিত দান: আল্লাহ্ তার জন্য দু’আটি আখিরাতের (পরকালের) জন্য সঞ্চয় করে রাখেন, যা তখন অনেক বড় পুরস্কার হয়ে ফিরে আসে।
৩. বিপদ দূরীকরণ: দু’আর বরকতে আল্লাহ্ তার ওপর আসতে থাকা কোনো বিপদ বা মুসিবতকে দূর করে দেন।
অতএব, দু’আ করার ক্ষেত্রে কখনোই নিরাশ হবেন না। আপনার দু’আ ব্যর্থ হবে না। হয়তো আপনি যা চেয়েছেন, তা পাননি, কিন্তু আল্লাহ্ জানেন আপনার জন্য কোনটি উত্তম।
আসুন, আমরা আমাদের প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজন, বিপদ-মুসিবত ও মনের সব কথা শুধুমাত্র মহান আল্লাহর কাছে পেশ করি। তিনি অবশ্যই আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন।
#দুআ #প্রার্থনা #আল্লাহর_সাড়া #তাওয়াক্কুল #ইসলামিক_পোস্ট









